সুখি হতে সব থেকে কম প্রয়োজন কিসের?

সুখি হতে সব থেকে কম প্রয়োজন কিসের?
উত্তরঃ টাকা - পয়সা, সম্পত্তি।

সুখি হতে সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন কিসের?
উত্তরঃ Human Connection এবং সঠিক মানুষের সাথে সুসম্পর্ক।

এই সিম্পল লজিক আমরা বুঝিনা বলেই বেশীর ভাগ মানুষ অসুখি। :)

আমরা হাসতে ভুলে গেছি। আমরা স্বার্থ ছাড়া কাজ করতে ভুলে গেছি। আমরা সেলফি তুলতে শিখেছি, আমরা নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকতে শিখেছি। আমরা শিখেছি স্বার্থপর হতে...। সময় আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। টাকার পেছনে ছুটতে শিখিয়েছে।

শুধু শেখায়নি যে, একটা বয়স পার হবার পরে টাকা-পয়সার প্রয়োজনীয়তা খুবই কম। তখন প্রয়োজন সঙ্গ দেবার মত কিছু মানুষের। কিছু আপন মানুষকে তখন বড্ড বেশী প্রয়োজন যে আপন কে আপন আপন লাগে।

জীবনের অনেক আয়োজনে আজ আমি আপনি ব্যাস্ত হয়ে পড়েছি। কিন্তু কেন এই আয়োজন? কেন এই প্রয়োজন? তা আমরা ভুলে গেছি। প্রয়োজনের প্রয়োজনকে আমরা আর প্রয়োজন মনে করিনা। সব প্রয়োজনের মূল লক্ষ তো একটায়। আর তা হল দিন শেষে সুখি থাকা। কোথায় সুখ? সুখ তুমি কোথায়?
সুখ বলে আমি তোমাদের সমৃদ্ধির ইট, পাথর আর কংক্রিটে চাপা পড়েছি। অহংকারের দালান ভেঙ্গে আমাকে টেনে তোল।

আর আমরা বলি তোমাকে টেনে তোলার সময় আমাদের নেই। তুমি থাকো চাপা পড়ে। ঐ দেখা যায় অট্টালিকার চূড়া, ঐ খানেই বুঝি আমার সর্বসুখ অপেক্ষা করছে। উঠতে হবে আরো ওপরে আরো অনেক অনেক ওপরে...।

চূড়ায় পৌঁছার পর আবারো আমরা সুখ খুঁজি, সুখ তুমি কোথায়? সুখ এবার বলে তোমার জন্য আমি নই। তোমার কাছে সম্পদের চেয়ে সম্পত্তির দাম বেশী। সম্পত্তি ক্ষণস্থায়ী, হস্তান্তর যগ্য বস্তু। সম্পদ হস্তান্তরের অযগ্য মহামূল্যবান প্রাপ্তির নাম।

আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমি অনেক ভাগ্যবান আল্লাহ্‌ আমাকে কিছু কঠিন পরিক্ষার মাধ্যোমে মানুষের সাথে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করতে শিখিয়েছেন। কিছু আপন মানুষ পেয়েছি যারা হয়তো আপন হবার কথা ছিলোন। তারাই আজ বড্ড আপন। আর কিছু আপন মানুষ হারিয়েছি যারা আপন থাকার কথা ছিল চিরকাল।

আমি ছল চাতুরির মায়াজালে বুনতে জানিনা। সুখি থাকার অভিনয়ে পারদর্শী নই। অপরাধকে প্রশ্রয় দিতে জানিনা। বিবেক আমার কাছে সুপ্রিম আদালত। অপরাধ বোধ আমার আইনের মৃত্যুদন্ডের মতই কষ্টদায়ক। তাই সাদা কে সাদা আর কালো কে কাল বলতে আমি ভয় পাইনা। হোক সে আমার পরম আপনজন। হোক সে আমার আত্মার আত্মীয়। তবুও অপরাধী অপরাধিই। অপরাধিকে সম্পর্কের স্বার্থে নিরপরাধ প্রমাণ করার মত উকিল আমার বিবেক আদালতে নাই।

আমি আমার পরম আপনজনকেও পর করে দিতে শিখেছি। কষ্ট আমারো হয়। তবে বিবেকের আদালতে আমি নিরপরাধী। ২২ বছরের এই অল্প সময়ে জীবনের এমন কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে লড়াই করেছি যা হয়তো ৪০ বছরেও করার কথা ছিলনা। এখন আর অল্পতে ভেঙ্গে পরিনা, ঘুরে দাড়াতে শিখে গেছি।

সময় যে বড় বেঈমান। সমাজ বাকরুদ্ধ শান্তি চায়। আধুনিকতা যে সেলফির মাপকাঠিতে পরিমাপ হয়। শিক্ষার মানদন্ড যে সার্টিফিকেট আর সৌন্দর্যের পরিমাপ হয় মেকাপের পরলে। এমন সমাজে মুখোশ ধারিরা তো সম্মান পাবেই। আর বিবেকবান পাবে ধিক্কার। হায় সমাজ...। হায় মানুষ...। হায় সুখ...।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কেন এই ব্লগ? কি লাভ এত সময় নিয়ে লেখালেখি করে?